
ভিক্টর বিশ্বাস চিতা
স্টাফ রিপোর্টারঃ
কেউ কাউকে সম্মান দিয়ে কথা বলছি না। তাহলে আমরা যে মানুষ তার প্রমাণ কি?
আমরা দিনদিন সত্যি সত্যি একধরনের কলংকিত এক সমাজকাঠামোয় পৌছে গেছি। প্রতিদিনকার কথা বা আলোচনা সমালোচনা সবই আমরা অসভ্যতার এক প্রমাণ রেখে চলেছি। এরকম ভাবে যদি গোটা সমাজের সবাই করতে থাকি তাহলে আমাদের আগামী প্রজন্ম কি শিখবে?
বিশেষ করে রাজনীতির মাঠে আমরা প্রতিদিনকার যে ধরনের কথাবার্তা বলি তার নব্বই ভাগ কথা বার্তাই যেন একধরনের গালাগালী সমতুল্য বলা যায়। একজন অন্যজনকে আক্রমণ করে কথা বলা যেন সম্পূর্ণ অসুন্দর এক প্রলাপ মাত্র। আমরা কোনো ভাষণ বা জনসভায় যাই বলি না কেন। ঐ কথাগুলো একটু সুন্দর করে সাজিয়ে বলতেই পারি।
বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশে পঞ্চমুখী রাজনীতি চলে। এখানে ডান পন্থী বাম পন্থী মধ্য পন্থী এমনকি আপন মতামত বা ব্যক্তি মতাদর্শের রাজনীতি ও এখানে চলে। তাই রাজনীতি নিয়ে কথা বলার সময় মনে হয়। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ধরবে মারবে কাটবে এরকম অবস্থা। এই ধরনের অকথ্য ভাষা রাজনীতি অঙ্গনে প্রায় দুই যুগ ধরে চলে আসছে। এখান এর মাত্রা আরো বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যার ফলে সবচেয়ে বেলি ক্ষতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদরাই হচ্ছেন। এই ধরনের মন্দ ভাষার জন্য দেশের এক শ্রেণির ভদ্র শিক্ষিত সমাজ এবং একেবারে নিম্ন আয়ের জনগণ তারা আর রাজনীতি পছন্দ করছে না। যার ফলে ভোট কেন্দ্রে আগের মত আর জনগণ পাওয়া যায় না। দেশের সিংহভাগ মানুষেরা সবধরনের রাজনীতি মনে মনে বয়কট করেছে।
এমনকি আগের মত দেশের বাজার গুলোতে আজকে আর রাজনীতি নিয়ে তেমন আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে না। এখানে কথা থাকে যে একদল অন্য দলকে পছন্দ করে না। এটা যেমন সঠিক। তারচেয়েও বেশি সঠিক কথা হলো দেশের সিংহভাগ মানুষেরা আর রাজনীতি পছন্দ করছে না।
যদিও এর অনেকগুলো কারণ আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ হলো। রাজনীতি অঙ্গনে মুখ খারাপ করা। একদল আরেক দলকে অকথ্য ভাষায় উত্তর বা প্রতি উত্তর দেয়া। এই ধরনের মন্দ ভাষা যেন প্রতিদিনকার ঘটনা। দ্বিতীয় হলো দুর্নীতি। যারাই যখন ক্ষমতায় যায়। তখনই তারা দুর্নীতি করতে থাকে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের কাছে সাধারণ জনগণ আর কোনরকম সুবিধা পায় না।
বাংলাদেশের রাজনীতি দলগুলোকে জনগণ সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করতে শুরু করেছে তখন থেকে। যখন কোনো এলাকায় বন্যা হয় বা খরা হয়। একটি এলাকার লাখ লাখ জনগণ যখন পানি বন্দী থাকে বা অনাহারে থাকে তখন সরকার তাদের জন্য কিছু করতে পারে না। যথেষ্ট সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে না। যাই কিছু বরাদ্দ করা হয়। তার বেশিরভাগ লুঠপাট তাদের দলীয় লোকেরাই করে থাকে।
যুগের পর যুগ এই ধরনের বিপত্তি ঘটিয়েই যাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। আবার ভাষা ব্যবহার করতে গিয়েও সবাই মন্দ ভাষা বলছে। এককথায় আমাদের দেশের রাজনীতিতে যেমন রয়েছে দুর্নীতি। তেমনি রয়েছে অকথ্য ভাষা। এ যেন সবই অসুন্দর আর অসুন্দর।
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানী