
ঝিনাইদহের শৈলকুপাতে ৩-চরমপন্থী হত্যায় কেনো নিহত রাইসুল ইসলাম (রাজু)
(পর্ব -০১)
(সবার মতামত কমেন্টে না জানালে ২-য় পর্ব আর লিখবো না)।
ঝিনাইদহ এর শৈলকূপা থানার ২-নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়ন এর রামচন্দ্রপুর গ্রামের উত্তর পাড়া, ক্যানেলের পাশে, শ্বশান ঘাটে,
২১-শে ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাত আনুমানিক ৮-টার সময়, ৩-জন চরমপন্থী নিহত হয়েছেন, কিন্তু বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার শুরু হয় রাত আনুমানিক সাড়ে ১০-টা থেকে ১১-টার সময়।
রাত ৮-৫৪ মিনিটে এই হত্যার দায় স্বীকার করে জাসদ গনমুক্তি ফৌজ এর নামে গণমাধ্যম কর্মীদের নিকটে হোয়াটসঅ্যাপে একটু ক্ষুদে বার্তা পাঠায়।
সেই ক্ষুদে বার্তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য,
জেলার গণমাধ্যম কর্মিরা, সোর্স এবং স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে নিহতের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত হতে চান।
সেদিন ৩-জন হত্যা হয়েছিলো, ঘটনা ১০০% সত্য।
হাতে গোনা ৪-৫ জন গণমাধ্যম কর্মি এবং ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স সহ একই সময় ঘটনাস্থলে হাজির হই। ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যাওয়ার কারন হচ্ছে, যে স্থানে ঘটনা সংগঠিত হয়েছে, ঐ স্থানের বিষয়ে তথ্য ছিলো যে, ঐ জায়গা কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানা এলাকার মধ্যে। পাশাপাশি ২-টা থানা এলাকা, শৈলকূপা এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা। ঘটনা যদি ক্যানেলের অপর প্রান্তে সংগঠিত হতো, তাহলে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা এলাকার মধ্যে পড়তো।
সেই জন্য, ঘটনার স্থান নির্নয় এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার কাছাকাছি হওয়ার জন্য, ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ বা শৈলকূপা থানা পুলিশ পৌছানোর কিছু সময় আগেই ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা পুলিশ দুর্ঘটনার স্থানে একটু আগেই পৌছিয়ে যান।
দুর্ভাগ্য বসত, আমি ও সেই দিন, একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে প্রথমে যে, ৪-জন ঘটনাস্থলে লাস দেখেন, তার মধ্যে আমি ও একজন অধম।
প্রথম লাশ টা দেখার পরে, একটু হলেও আতঙ্কিত হয়েছিলাম। কারন, গুলি করা হয়েছিলো, মাথার ডান পাশে, চোখের উপরে, মাথায় হেলমেট পরিহিত অবস্থায় ছিলো, কিন্তু গুলিতে চোখ এবং মাথার ডান পাশ ভেঙে রক্তান্ত অবস্থায় বিভৎস, ভয়ংকর দেখাচ্ছিলো, লাশের চেহারা।
যেহেতু গণমাধ্যম কর্মী, সেই ক্ষেত্রে নিজেকে একটু সামলে নিয়ে আবার ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সীদ্ধান্ত নিই, মোবাইলের ফ্লাস লাইট জেলে,
(কারন, আমাদের নিকটে কোনো টর্স লাইট, বা বেশি আলোর কোনো অতিরিক্ত ব্যাবস্থা ছিলো না)
৪-৫ হাত দুরে আর ও একজন পড়ে ছিলো গুলিবিদ্ধ অবস্থায় (নিহত)। তার বুকে, এবং মাথায় গুলি করা হয়েছিলো। লাশের, বাম পাশ দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়েছিলো, এবং ডান কান দিয়ে প্রচুর রক্ত বাহির হয়েছে দেখা যাচ্ছিলো।
তারপর, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে শুরু করি যে আরো একজন এর লাশ কোথায়?? কারন, আমাদের নিকটে তথ্য ছিলো যে, নিহত হয়েছে ৩-জন। ২-টা লাশ দেখতে পেয়েছি, কিন্তু তথ্য অনুযায়ী আরো ১-টা লাশ থাকার কথা।
লাশের ২-৩ হাত সামনে, নিহত ব্যাক্তিদের ২-টা মোটরসাইকেল ঐ একই স্থানে, সিরিয়ালে সামনে একটা, তার পিছনে আর একটা সুন্দর স্ট্যান্ড করে দাড় করায়ে রাখা ছিলো।
কিন্তু, সেই লাশটা খুঁজে পেতে একটু কষ্ট করতে হয়।
কারন, ২-টা উপরে, মোটরসাইকেল এর কাছেই ছিলো, সেই জন্য সরাসরি সামনে পড়েছে।
আর, ১-টা লাশ একটু দুরে, ১৫-২০ হাত দুরে, নিচু জায়গায়, (খাল-ক্যানেল এরকম কিছু) ধান ক্ষেতের মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে আছে। মোবাইলের ফ্লাশ লাইটের আলোই যতটুকু বুঝতে পারছি যে, ওখানে কোন একজন ব্যাক্তির মৃতদেহ পড়ে আছে।
দেখা মাত্রই, উচু গলার কন্ঠে বললাম যে, আরো একজন এর মৃতদেহ দেখা যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে, ৪-৫ জন কাছে ছুটে এলেন, এবং সবাই মোবাইলেের আলো জালিয়ে সবকিছু বোঝার চেষ্টা করছেন।
ততক্ষণে, স্থানীয় লোকজন, থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা এসে মাত্র হাজির হয়েছেন।
ততক্ষণেে, উপরের ২-জন এর মধ্যে একজন এর বিষয়, আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা, কুষ্টিয়া (ইবি) থানার সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) রাকিবুজ্জামান (রাকিব) ভাই (পুর্ব পরিচিত) আমাকে বলেন যে, এর মধ্যে কেউ একজন আছে, যার নামঃ হানিফ, সে নিষিদ্ধ সংগঠন পুর্ব বাংলা কমিউনিস্ট এমএল জনযুদ্ধ দলের প্রধান, সামরিক কমান্ডার। কিন্তু, পুর্বে থেকে হানিফ কে কেউ কখনো আমরা সরাসরি দেখি নাই, তাই নিহত কোন ব্যাক্তির নাম হানিফ!!! সেই টা বুঝতে পারছিলাম না।
কিন্তু কোন লাশ টা সেই, হানিফ নামের ব্যাক্তির ??
সেই পরিচয় টা ও ২-৩ মিনিটের মধ্যেই অসংখ্য লোকের মধ্যে থেকে, সবাই বলাবলি করছে, এবং শনাক্ত করা গেলো, যে এই নিহত ব্যাক্তি হানিফ। এবং ততক্ষণাৎ শৈলকূপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান গণমাধ্যম কর্মীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করলেন, নিহত ৩-জন ব্যাক্তির মধ্যে কোনটা হানিফ। বাকি ২-জন এর বিষয়ে তখন ও সঠিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় নাই।
উপস্থিত জনগন যখন নাম শুনতে পারলেন, উপস্থিত সবাই বিষয় টা আরো শক্ত করে বলা শুরু করলো যে, এই হানিফ নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠন পুর্ব বাংলা কমিউনিস্ট এমএল জনযুদ্ধের প্রধান সামরিক কমান্ডার এবং সাথে আরো যে ২-জন হত্যা হয়েছে এরা সবাই নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠন, একই দলের সদস্য।
ততক্ষণে, ধান ক্ষেতে পানির মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা, সেই লাশ ও লোক মাধ্যমে প্রশাসনের দায়িত্ব প্রাপ্ত উর্ধতন কর্মকর্তারা উপরে উঠিয়ে নিয়ে আসলেন,
এবং , ৩-টা লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছেন বলে গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়ে দিলেন। তদন্তের সার্থে, ঐ মুহূর্তে আর কোনো তথ্য জানানো যাবে না বলে, অস্বীকৃতি জানান ।
যে বিষয় টা নিয়ে, আমার মনের মধ্যে জটলা সৃষ্টি হলো, এবং হিসাব নিকাশ শুরু হলো, তা সে এক জটিল সমিকরন!!!
কোনোভাবেই এই সমিকরন যেনো আর মিলছে না। সমীকরণ মেলানোর যত চেষ্টা করছি, ততই যেনো, এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।
সারারাত এভাবেই কেটে গেলো!! পরবর্তী, ২-৩ দিন বিভিন্ন জায়গায় ছুটতে লাগলাম, সমীকরণ এর হিসাব মেলাতে।
সমীকরন একটি জায়গায় বারে বারে আটকিয়ে যাচ্ছে!!!
জটিলতা সৃষ্টি হলো, কথিত চরমপন্থী নিহত রাইসুল ইসলাম (রাজু) কে নিয়ে।
ঘটনার যত ভিতরে যায়, ততই যেনো হিসাব নিকাশ, সুত্র সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়।
আবারো নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করি। এভাবেই যেনো, ৮-১০ দিন সময় পার হয়ে গেলো, কোনোকিছু বোঝার আগেই।
কিন্তু, আমি ও নাছোড়বান্দা, হাল ছাড়তে রাজি নই।
যেখানে শেষ হয়, ঐ খান থেকে নতুন করে আবারো শুরু করি।
কিন্তু, বিধি বাম!!!!
রাষ্ট্র যাদের কে তদন্ত করার দায়িত্ব দিয়েছে, তাদের মধ্যেই উদাসীনতা আর অবহেলার ছাপ প্রথমেই আমার নজরে আসে, এবং আমাকে নিরুৎসাহিত করে!! তবু ও থেমে থাকার বান্দা আমি নই। এগিয়ে যেতে হবে, আদৌপান্ত, সঠিক তথ্য জানতে হবে, জনগনের নিকট আমার দায়বদ্ধতা আছে, সামান্য একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে , চুড়ান্ত সীদ্ধান্ত নিলাম, জানতে এবং জানাতে।
এতোবড় একটা দুর্ঘটনা,
অথচ, রাস্ট্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যাক্তিদের উদাসীনতা চরমভাবে, আমাকে পিড়া দিতে থাকে।
নিহত হানিফ এবং (হানিফের শালা) নিহত লিটন এর বিষয় নিয়ে আমার খুব একটা আগ্রহ নেই জানবার জন্য!! কারন, প্রশাসন এবং স্থানীয়দের ভাষ্যমতে নিহত, হানিফ এবং লিটন প্রতিষ্ঠিত অপরাধী। ফাসির আসামী ছিলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় ক্ষমা প্রার্থী সহ, অসংখ্য অভিযোগ আছে, শরীর হিম করার মতো ঘটনা।
আমার আগ্রহ,
শুরু হলো যখন স্থানীয় এবং প্রশাসনের দাবী, নিহত রাইসুল ইসলাম (রাজু) নামের ছেলে টার আগে পরে, কেউ কখনো, (মৃত্যুর আগে বা পরে) তার খারাপ কোনোকিছু কারো চোখে পড়েনি। সবাই তাকে, ভালো ছেলে, এবং পরিচিত সবার প্রতি তার দায়িত্ব কর্তব্যর বিষয়ে সচেতন একটা শিক্ষিত ভদ্র ছেলে বলে দাবী উঠলো।
প্রশ্ন এখানেই থামিয়ে দিলো আমাকে!!!
আনুমানিক, ২৫-২৬ বছর বয়সের একটু ছেলে, প্রতিষ্ঠিত কিছু চরমপন্থী, সন্ত্রাসীদের সাথে জীবন দিতে হলো কেনো???
এরকম হাজারো প্রশ্ন নিয়ে সেই থেকে শুর করেছি তদন্ত। যা এখোনো চলমান।
হত্যার স্থানে, কিভাবে, কে বা কাহারা, কেনো নিয়ে গেলো, এবং কতটুকু অপরাধ এর জন্য, ২৫-২৬ বছর বয়সী একজন মেধাবী ছেলে কে হত্যা করা হলো???
আসলেই কি, হত্যা হবার মতো অপরাধ রাইসুল ইসলাম রাজু করেছিলো???
না কি, কিছুই জানতো না?? অপরাধীদের সম্পর্কে গোপনীয় ভাবে সবকিছু জেনে যাওয়া, ঘটনার সাক্ষী না রাখা, পাওনা টাকা ফিরিয়ে না দেওয়ার জন্য, চরমপন্থী হানিফ এবং লিটন এর সাথে রাইসুল ইসলাম রাজু কে হত্যার পরে নিষিদ্ধ সংগঠন চরমপন্থীদলের সদস্য হিসেবে প্রচার হলে, ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা সহজ হবে, এবং প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে???
চরমপন্থী দলের সাবেক কিছু নেতা, যারা এখন বয়োবৃদ্ধ এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করেন, এরকম বেশ কিছু ব্যাক্তির সাথে কথা বলে জানবার চেষ্টা করেছি। সেই সাথে এই হত্যাকান্ডের ছায়া তদন্ত করছে এমন, প্রশাসনের গোয়েন্দা বিভাগের একাধিক উর্ধতন কর্মকর্তার সাথে ও কথা বলেছি আনঅফিসিয়ালী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য উঠে এসেছে সেই সব ব্যাক্তির তথ্য মোতাবেক।
সেই সব তথ্য,
এবং এই ঘটনার সাথে সন্দেহাতীত ভাবে সম্পৃক্ত, এরকম একাধিক ব্যাক্তি, যারা নিজরাই প্রশাসনের ভয়ে আত্নগোপনে আছেন, তাদের পরিবার এবং শুভাকাঙ্ক্ষী-দের সাথে। প্রথমে কথা বলতে রাজি না হলে ও পরবর্তীতে, তাদের সকলের পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে, কথা বলতে রাজি হয় এবং কথা বলেন।
নিহত, কথিত চরমপন্থী রাইসুল ইসলাম (রাজু) কে হত্যার মাস্টামাইন্ড সহ, প্রকৃত অপরাধী যেনো এখোনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গিয়েছে!!!
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, কতটা ভয়ংকর রুপ সমাজে বিরাজমান তা এই হত্যাকান্ডের তদন্তের ধারাবাহিকতা, গতিপথ পাল্টে, ধীরগতি , দায় এড়ানোর প্রবনতা, নিজেদের পকেট ভারি, আর সাধারণ মানুষ এর হয়রানি!!! এই মামলার হাস্যকর কিছু তথ্য ও হাড় হীম করার মতো ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে,
দৈনিক নবদেশ২৪ অনুসন্ধানী দলের অনুসন্ধানে।
২-য় পর্ব জানতে সাথে থাকুন